বৈশ্বিক পণ্যবাজার আগামী দুই বছর নিম্নমুখী থাকতে পারে। ২০২৬ সালের মধ্যে পণ্যের দাম ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে আসবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়। প্রতিবেদনে দাম কমার পেছনে কারণ হিসেবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দুর্বল প্রবৃদ্ধিসহ জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত সরবরাহ উল্লেখ করা হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে বৈশ্বিক পণ্যবাজারে গড় দাম প্রায় ১২ শতাংশ কমতে পারে। ২০২৬ সালে আরো ৫ শতাংশ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এ হারে দাম কমতে থাকলে তা মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর দেখা যাবে দাম ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের গড় স্তরের চেয়েও নিচে নেমে গেছে। কভিড-১৯ মহামারীর পর এটাই হবে প্রথমবারের মতো এত বড় পতন।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতির দুর্বলতার কারণে জ্বালানি ও কাঁচামালের চাহিদা কমে যাচ্ছে। এর বিপরীতে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ তুলনামূলক বেশি থাকায় বাজারে দাম কমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম ২০২৫ সালে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ কমে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে দাম আরো ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের গড় দাম ২০২৫ সালে ব্যারেলপ্রতি ৬৪ ডলার ও ২০২৬ সালে ৬০ ডলার হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, চলতি বছর বিশ্বে জ্বালানি তেলের সরবরাহ চাহিদার চেয়ে দৈনিক সাত লাখ ব্যারেল বেশি হতে পারে। পাশাপাশি চীনে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালে দেশটিতে বিক্রি হওয়া নতুন গাড়ির মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি ছিল ব্যাটারিচালিত বা হাইব্রিড, যা ২০২১ সালের তুলনায় তিন গুণ বেশি।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়, যদিও অনেক পণ্যের নামমাত্র দাম এখনো কভিড-১৯ মহামারী-পূর্ব সময়ের চেয়ে বেশি। কিন্তু প্রকৃত মূল্যের হিসাবে তা ক্রমান্বয়ে কমছে। এ ধারা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে পণ্য রফতানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য তা হুমকির কারণ হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পণ্যের দাম কমে যাওয়ার ফলে প্রতি তিনটি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে দুটির অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধীর হতে পারে। এছাড়া ২০২৫ সালে খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ৭ শতাংশ ও ২০২৬ সালে আরো দশমিক ৯ শতাংশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে অস্থিরতা ও সংকটপূর্ণ সময়ে ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের দাম ২০২৫ সালে নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে। ২০২৬ সালে দাম স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কভিড-পূর্ব পাঁচ বছরের তুলনায় স্বর্ণের দাম প্রায় ১৫০ শতাংশ বেশি থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকেই বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম কমছে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি হ্রাসে ভূমিকা রাখছে। তবে এ ধারা পণ্যনির্ভর অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।